ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের পর বিটকয়েন মিলিয়নেয়ার বেড়েছে প্রায় ১৬ হাজার

চলতি মাসে বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েন মূল্যবৃদ্ধির দিক একাধিক মাইলফলক অর্জন করেছে।

চলতি মাসে বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েন মূল্যবৃদ্ধির দিক একাধিক মাইলফলক অর্জন করেছে। এমনকি তা সোয়া লাখ ডলার মূল্যের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। এর পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রিপ্টোবান্ধব মনোভাব। সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত জানুয়ারিতে এ রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউজে প্রবেশের পর ক্রিপ্টো খাতের উল্লম্ফনের প্রভাবে বিটকয়েন খাতে। নতুন মিলিয়নেয়ারের (অন্তত ১০ লাখ ডলার মূল্যমানের সম্পত্তির মালিক) সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৬ হাজার। খবর ইউরোনিউজ।

গবেষণা সংস্থা ফিনবোল্ডের নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ জানুয়ারি থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে ১৫ হাজার ৮৪১ জন নতুন বিটকয়েনধারী মিলিয়নেয়ার হয়েছেন। এতে বিটকয়েন মিলিয়নেয়ারদের মোট সংখ্যা ছয় মাসে ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ২০৫-এ। এ সময়কালে প্রতিদিন গড়ে ৮৮ জন বিটকয়েনধারী নতুন মিলিয়নেয়ার হয়েছেন। মূলত বিটকয়েনের দামে ব্যাপক ঊর্ধ্বগতি এ মিলিয়নেয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১ কোটি ডলার বা ৮৫ লাখ ইউরোর বেশি মূল্যের বিটকয়েন ধরে রেখেছেন এমন বড় বিনিয়োগকারীরা উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হয়েছেন। গত ছয় মাসে তাদের মুনাফা ১৬ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।

ক্রিপ্টোবাজারে এ উত্থানের পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন এবং দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর বাজারে ছড়িয়ে পড়া ইতিবাচক মনোভাবকে মূল কারণ হিসেবে দেখছে ফিনবোল্ড।

গত বছরের অক্টোবরে নির্বাচনী প্রচারে যুক্তরাষ্ট্রকে ক্রিপ্টোর রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি ক্রিপ্টোর রিজার্ভও ছিল তার অগ্রাধিকারে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে যার ইতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে ক্রিপ্টোরবাজারে। ওই সময় প্রথমবারের মতো ১ লাখ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে বিটকয়েনের মূল্য।

ফিনবোল্ড জানিয়েছে, অক্টোবরের শুরুতে নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের ঘোষণার পরদিন বিটকয়েন মিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৪২। এরপর তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার প্রায় ছয় মাস পর সব ধরনের ডিজিটাল কারেন্সি মিলিয়ে ক্রিপ্টো মিলিয়নেয়ারের সংখ্যা বেড়েছে ৫৯ হাজার।

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রণোদিত নিয়ন্ত্রক নীতিমালার ফলে ক্রিপ্টোবাজারে এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস দেশটিতে ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ন্ত্রণে প্রথম কোনো বড় আইন অনুমোদন করেছে। নতুন ‘জিনিয়াস’ আইনকে ডিজিটাল সম্পদ খাতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন অনেকে। আইনটি কর ব্যবস্থাপনা, স্টেবলকয়েন ইস্যু এবং প্রতিষ্ঠানগত কাস্টডি নিয়মাবলির জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশিত সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো দেবে।

গত ১৮ জুলাই ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারের সম্মিলিত মূল্য ৪ ট্রিলিয়ন বা ৪ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছে, যা এ খাতের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘জিনিয়াস অ্যাক্টে’ সই করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন আইনসভায় ধারাবাহিকভাবে পাস হওয়া তিনটি বিল এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ইতিবাচক অবস্থানের কারণে ডিজিটাল মুদ্রার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। বিশেষ করে স্থিতিশীল ডিজিটাল মুদ্রা বা স্টেবলকয়েনকে কেন্দ্র করে যে নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, তা খাতটিকে মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

প্রফেশনাল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও অ্যান্থনি পম্পলিয়ানোর মতে, সাধারণভাবে কোনো সম্পদের মূল্য বা বাজার মূলধন বাড়লে তার সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ে। কিন্তু বিটকয়েনের ক্ষেত্রে উল্টোটা ঘটে। এর মূল্য বা বাজার মূলধন বাড়লে বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ মনে হয়। কারণ তখন এটি আরো প্রতিষ্ঠিত ও গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।

তিনি আরো বলেন, ‘যখন বিটকয়েনের বাজার মূলধন ১০০-২০০ বিলিয়ন ডলার ছিল, তখন খুব কম অভিজ্ঞ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এতে বিনিয়োগের সুযোগ নিত। এখন বাজার ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায় বিশ্বের প্রায় সব বড় বিনিয়োগকারী এতে অংশ নিতে পারছে।’

এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রিপ্টোবান্ধব নীতিমালা পুরো ডিজিটাল অ্যাসেট খাতকে উৎসাহিত করছে। ফলে খাতটিতে বিপুল পরিমাণ মূলধন প্রবেশ করছে। যেমন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিবারের মালিকানাধীন ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ একটি এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) চালুর পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে বিটকয়েন, ইথার, সোলানা ও রিপলসহ একাধিক ক্রিপ্টো টোকেনে বিনিয়োগ হবে।

আরও